
শিশু যেভাবে শিখে
দুনিয়ায় আগমন কালে একটা শিশুর যবানে কান্না ছাড়া আর কিছুই আসে না। সে বলতে পারেনা চলতে পারে না, ঠিকভাবে খাওয়া খাইতে পারে না, তার প্রয়োজনে কাউকে বুঝাইতে পারে না। সর্ব দিক থেকে দুর্বল। এই দুর্বলতা সবাই জানে। এই কারণে আল্লাহ তায়ালা বড়দের অন্তরে শিশুর প্রতি অন্য রকম ভালোবাসা দিয়েছেন। তাকে সবাই ভালোবাসে শিশুর প্রতিটা শব্দ অন্তরে নাড়া দেয়। তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। সাহায্যের মধ্যে আছে ভালোবাসা অন্তরিকতা।
এই ভালোবাসা আর আন্তরিকতা একটা শিশুর জীবনে নিয়ে আসে চলার শক্তি বলার ভাষা। খুব অল্প সময় তার এই উন্নতি, শিশু যে এলাকায় আছ, সেই ভাষা অর্জন হয়ে যায়। সময় মাত্র দুই থেকে আড়াই বছর। এই কোর্সের মাধ্যমে দুনিয়ায় চলার মত অনেক কিছু অর্জিত হয় অতি অল্প সময়। হিসাব করলে দেখা যে ভাষা সে দুই বছরে শিখছে সেটা পরবর্তি বিশ বছরে অনেকের আর হয় না।
এটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে?
এর ফিছনে যেই বিষয়গুলো সাহয্য করেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তার প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা। সে বলতে পারে না বলতে গেলে এলোমেলো বলে। তার ভুল কে ভুল বলে তিরস্কার করা হয় না। বরং শিশুর সুরে সুর মিলিয়ে শিশুর ভুল শব্দই শিশুর সামনে উপস্থাপন করা। এতে শিশু আর উৎসাহিত হয়ে উঠে। আরো বেশি বলার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এবং ভিবিন্ন প্রশ্ন করে বার বার প্রশ্ন করে এটা কি? ঐটা কি? আর আপনি উত্তর দিতে থাকেন। শিশু এভাবে মেমোরী লোড করতে থাকে। কখনো প্রশ্ন করতে লচ্ছা বা ভয় পান না। কারণ আপনি কখনো এই প্রশ্ন গুলোর জন্য ধমক দেন নাই। বিরক্তি মনোভাব দেখান নাই প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ভালোবাসার সাথে। আমাদের কি ধারনা? শিশু রাগ বা বিরক্তি বুঝে না? একটা শিশু মানে আগামীর জাতির কর্নধার। আমি আপনি যেমন একটা শিশু তার ব্যতিক্রম নয়। রাগ, লচ্ছা, অহংকার, আকাঙ্ক্ষা, হিংসা ইত্যাদি এজাতীয় মানুষত্ব গুন নিয়ে তার জন্ম। শুধু এত টুকুই সে দুর্বল এবং তার ভাষা জানা নাই।
কিন্ত দুংখের বিষয় হল যখন এই শিশুর বয়স তিন বছর বা তার বেশী হয় তখন থেকে তাকে শাসন শুরু হয়। তাকে আদর আর ভালোবাসা দিয়ে বলে না এটা ভালো ঐটা খারাপ। আমরা ভুলে যাই এই হল সেই শিশু যে আগাত করলে চুমু দিয়ে বলতাম এভাবে করে না এটা ভালো নয়। আগাতের পরিবর্তে আদর করতাম। এখন কথা বা আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তে শাসন করি। সে কান্না করলে পেরেশান হয়ে যেতাম এখন উল্টো লাঠি ব্যবহার করি। এককথায় যথাযোগ্য ভালোবাসার অভাব। এর অভাবে শিশুর প্রতিভা দ্বীরে দ্বীরে সংকুচিত হয়। চিন্তা পরিধী ছোট হয়ে আসে।
বাস্তবতা হল
গ্রামে দেখবেন যখন লাউ গাছ বা কোনো বীজ কে স্বাধীন ভাবে ছেড়ে না দেয় বা তার সাথে কোনো আগাছা জন্মায় তাহলে গাছের সম্প্রসার হয় না। এর থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না। ভালো ফলাফল পেতে হলে লাগে ভালো পরিবেশ উপযুক্ত জায়গা এবং সঠিক সময় যত্ন। এটা সবাই জানি। লাউ গাছের চাউনি নিশ্চয় দেখেছেন গাছ মাঝে মাঝে চাউনি থেকে অন্য দিকে মুখ করে বড় হতে চায়। নির্দিষ্ট চাউনিতে থাকতে চায় না। নিজেকে প্রকাশ করতে ব্যস্ত। এই সময় একজন কৃষক খুব যত্নের সাথে তার গতিকে চাউনির দিকে করে দেয়। অনেক সময় বার এরকম হয়ে থাকে প্রতিদিন কিছু না কিছু মুখ বের করে দেয় এখন কোনো কৃষক যদি রাগ করে মাথা কেটে দেয় ফলাফল কি দাঁড়াবে এটা আমরা সবাই বুঝি। এই ক্ষেত্রে কেউ উত্তেজিত হয় না। হলে সমাজে তাকে পাগল বলবে।
একটা গাছ থেকে ফলের আশায় এই পরিমাণ যত্ন আর ধৈর্যশীল হতে হলে সন্তানের জন্য কি পরিমান যত্ন ও ধৈর্যের প্রয়োজন একটু চিন্তা করুন । আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন “আমিন”।
দ্বিতীয় বিষয় হলঃ পড়ানোর কৌশল
শিশুর প্রতিটি অর্জন দেখে দেখে হয়েছে। দুর্বাগ্যবশত আমাদের শিশু পাঠশালা গড়ে উঠেছে লেকচার সামগ্রী হিসাবে। একগাধা বই আর অন্ধভাবে মুখস্থ এই হল আমাদের শিশু শিক্ষা। আমরা সন্তান আদেশ দেই মোবাইল ধরা যাবে না কিন্ত আমরা ধরি। আমরা বলি মিথ্যা বলা যাবে না কিন্তু আমরা তার সামনে মিথ্যা বলি। আমরা উপদেশ দেই দোকা গুনাহর কাজ কিন্ত আমার কর্মে বলে দেয় এই নসিহত শুধু সন্তানের জন্য আমি স্বাধীন। এভাবে শিক্ষক অভিবাবক সন্তানকে বড় করতে চায়। এই জন্য যেই শিক্ষা তার দুই বছরে হয়েছে সে রকম শিক্ষা ১৫ বছরে হচ্ছে না।
এই জন্য শিশুর শিক্ষক নির্ধারণ করতে হবে সচেতন দেখে, যে বলে শিখাবেন না দেখায়ে শিখাবেন। শাসন করে নয় ভালোবাসা দিয়ে শিখাবে। অভিবাবক হতে হবে অনেক অনেক সচেতন।
সন্তানকে আদর্শ নাগরিক হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শিক্ষক ও অভিবাবক হিসাবে আমাকে আপনাকে যে বিষয় গুলো লক্ষ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন;
১. আদেশ নয় কর্মে বুঝিয়ে দিন এটা ভালো এটা মন্দ। এর জন্য নিজে সংশোধন হওয়া প্রয়োজন। এই মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন “
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا قُوْا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيْكُمْ نَاراً وَقُوْدُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلاَئِكَةٌ غِلاَظٌ شِدَادٌ لاَ يَعْصُوْنَ اللهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَا يُؤْمَرُوْنَ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও স্বীয় পরিবারবর্গকে আগুন (জাহান্নাম) হ’তে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। সেখানে অত্যন্ত কর্কশ, রূঢ় ও নির্মম স্বভাবের ফেরেশতা নিয়োজিত থাকবে, যারা কখনই আল্লাহর কথা অমান্য করে না এবং নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে’ (তাহরীম ৬)।
আগে নিজের কথা উল্ল্যেখ করেছেন এরপর পরিবারের কথা। সুতরং নিজে ভালো কাজের অভ্যাস করুন পরিবার এমনেই ভালো হয়ে যাবে।
২. ধমকের শুরে শাসন না করে ভালোবাসার সাথে শাসন করুন।
৩. তার স্বপ্ন তাকে বুঝিয়ে দিন। ভবিষ্যতে কি হবে এখন থেকে তালিম দিন। দেখবেন উৎসাহিত হয়ে উঠবে। সে নিজে তা অর্জন করার জন্য চেষ্টা করব।
৪. মাঝে মাঝে কষ্ট কি জিনিস বুঝতে দিন।
আল্লাহ সবাই বুঝার তাওফিক দিন “আমিন”


